fbpx

কাবুলে আটকে পড়া বাংলাদেশিদের দেশে ফেরা নিয়ে অনিশ্চয়তা!

Pinterest LinkedIn Tumblr +

কাবুল বিমানবন্দর বন্ধ ঘোষণা করার কারণে শেষ মুহূর্তে ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে কাবুলে আটকে পড়া বাংলাদেশিদের দেশে ফেরা।

গত সোমবার (১৬ আগস্ট) সকালে কাতার ভিত্তিক টেলিভিশন আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে জানানো হয় দেশটিতে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার কথা। তারপরই কাবুল বিমানবন্দর বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

ছবি: রয়টার্স

কাবুল বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ কাউকে বিমানবন্দরে না আসতে অনুরোধ করে একটি বার্তার মাধ্যমে জানান, লুটপাট ও অপহরণ ঠেকাতে কাবুলের হামিদ কারজাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সব বাণিজ্যিক ফ্লাইট বন্ধ করা হয়েছে।

এদিকে, আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে বর্তমানে অবস্থান করছেন ১৮ বাংলাদেশি। উজবেকিস্তানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. জাহাঙ্গীর আলম এ বিষয়ে সংবাদমাধ্যমকে জানান, ১৮ বাংলাদেশির মধ্যে ১৬ জনের সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়েছে। মূলত, আফগানিস্তানে বর্তমানে কোনো দূতাবাস না থাকায় উজবেকিস্তানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত জাহাঙ্গীর আলম একই সাথে আফগানিস্তান, তাজিকিস্তান ও কিরগিজস্তানের দায়িত্বে আছেন।

এনজিও সংস্থা ব্র্যাক ইন্টারন্যাশনালের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির বরাত দিয়ে রাষ্ট্রদূত জানান, প্রবাসী কর্মীদের মধ্যে তিনজন বাংলাদেশিসহ ৫ জন ছুটিতে দেশটির বাইরে ছিলেন। তাদের আফগানিস্তান ফিরে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। কাবুলে থাকা নয়জন বাংলাদেশির মধ্যে তিনজন গত শুক্রবার বিমানযোগে রওনা দিয়েছেন এবং বাকি ৬ জনের আগামী ২২ আগস্টের মধ্যে রওনা দেওয়ার কথা রয়েছে। কিন্তু সংঘর্ষ ও গোলাগুলিতে হতাহতের ঘটনায় ১৬ আগস্ট বিমানবন্দর বন্ধ ঘোষণা করার পর বাংলাদেশিদের ফিরে আসা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

জাহাঙ্গীর আরও জানান, বর্তমানে আফগানিস্তানে ব্র্যাকের ছয়জন কর্মী ও আফগান ওয়্যারলেস কমিউনিকেশন কোম্পানিতে কাজ করা সাতজন বাংলাদেশী কর্মী রয়েছেন। এছাড়া, দেশটির এক স্যুয়ারেজ কোম্পানিতে চাকরিরত দুই বাংলাদেশী রয়েছেন। অপরদিকে, কাবুলের পুল-ই-চরকি নামের জেলখানায় তিন বাংলাদেশী ছিলেন বলেও জানান জাহাঙ্গীর আলম। এদের সবাইকে শিগগিরই দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন জাহাঙ্গীর।

তিনি আরও জানান, আফগান ওয়্যারলেস কমিউনিকেশন কোম্পানিতে কাজ করা সাত বাংলাদেশীর মধ্যে একজনের ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় তাকে  জরুরি ভিত্তিতে আবেদন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই সাতজন কাবুলের হাজারি নাজারি এলাকায় নিরাপদে আছেন বলে জানান রাষ্ট্রদূত।

এছাড়া, আফগানিস্তানের স্যুয়ারেজ কোম্পানিতে কাজ করা দুই বাংলাদেশীও বর্তমানে নিরাপদে আছেন বলে জানান জাহাঙ্গীর আলম। তাদেরকেও দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।

এদিকে, কাবুলে অবস্থান করা ব্র্যাককর্মীদের ১৮ তারিখের এক ফ্লাইটে দেশে ফিরিয়ে নিয়ে আসার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন এই রাষ্ট্রদূত। আর তালেবানরা যখন কাবুলের পুল ই চরকি জেলখানা দখলে নেয়, তখন জেলে বন্দী থাকা তিন বাংলাদেশীর মধ্যে একজন সেখান থেকে বেরিয়ে এক আফগান পরিবারে আশ্রয় নিয়েছেন। তবে, বন্দী বাকি দু’জনের সাথে এখনো যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি বলেও জানা যায়।

আফগানিস্তানের পরিস্থিতি সম্পর্কে জাহাঙ্গীর আলম বলেন, কাবুল বিমানবন্দরে বর্তমানে কোনো বিমান পাঠানোর পরিস্থিতি নেই। তাই বাংলাদেশ থেকে আলাদা কোনো বিমান পাঠানো হচ্ছে না। আর দেশটির বর্তমান পরিস্থিতিতে সংবাদ সংগ্রহ করাও কঠিন হয়ে যাচ্ছে।

রাষ্ট্রদূত জানান, কাবুলের বাইরে অন্য এলাকায় কোনো বাংলাদেশী আছে কিনা, সে ব্যাপারে তিনি নিশ্চিত নয়। তবে, আটকে পড়া বাংলাদেশিদের জন্য দু’টি হটলাইন চালু করা হয়েছে। যদি কোনো তথ্য পাওয়া যায়, তাহলে  +৯৯৮-৯৯৯১১৯১০২ এবং +৯৯৮-৯৭৪৪০২২০১ নম্বরে যোগাযোগ করার অনুরোধ করেছেন তিনি।

Share.

Leave A Reply