fbpx

কোভ্যাক্স থেকে ‘আবহাওয়া উপযোগী’ টিকা চেয়েছে বাংলাদেশ

Pinterest LinkedIn Tumblr +

কোভ্যাক্স থেকে ৬ কোটি ডোজের বেশি টিকা পাওয়ার কথা রয়েছে বাংলাদেশের। এরইমধ্যে, গত ১ জুন ফাইজার-বায়োএনকেটের তৈরি ১ লাখ ৬২০ ডোজ টিকা হাতে পেয়েছে বাংলাদেশ। কিন্তু, ফাইজার-বায়োএনটেকের এই টিকা সংরক্ষণ করতে প্রয়োজন হিমাঙ্কের নিচে মাইনাস ৯০ ডিগ্রি থেকে মাইনাস ৬০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা। এরফলে, এ টিকা সংরক্ষণ করতে আল্ট্রা কোল্ড ফ্রিজারের প্রয়োজন হয়। আর পরিবহনের জন্য থার্মাল শিপিং কনটেইনার বা আল্ট্রা ফ্রিজার ভ্যান লাগে।

এসব দিক বিবেচনা করে এবার বাংলাদেশ করোনাভাইরাসের টিকার আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম ‘কোভ্যাক্স’ থেকে স্থানীয় আবহাওয়ার উপযোগী সহজে সংরক্ষণ ও পরিবহনযোগ্য টিকা চেয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক এ বি এম খুরশীদ আলম সংবাদমাধ্যমকে জানান, এ বিষয়ে কোভ্যাক্স থেকে জানতে চাওয়ার পর বাংলাদেশ তাদেরকে জানায়, কোভ্যাক্স থেকে দেওয়া টিকা বাংলাদেশের আবহাওয়া উপযোগী না হলে তা ম্যানেজ করা কঠিন হয়ে যাবে। কারণ, সাধারণ রেফ্রিজারেটরে এ টিকা ২ থেকে ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় রাখা হলে তা সবোর্চ্চ ৫ দিন পর্যন্ত ব্যবহারের উপযোগী থাকে। আর রেফ্রিজারেটরের বাইরে এ টিকা ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় দুই ঘণ্টা পর্যন্ত ব্যবহার উপযোগী থাকে।

খুরশীদ আলম বলেন, ‘আমরা ফাইজারের টিকা মাইনাস ৭০ ডিগ্রি তাপমাত্রায় রেখেছি। এটি গলানোর জন্য ডাইলুয়েন্ট লাগে। টিকা বানিয়ে তা মানুষের শরীরে দিতে হয়। এটা টেকনিক্যালি আমাদের জন্য ঝামেলা। আমরা বলেছি, মাইনাস ৮০ ডিগ্রি তাপমাত্রায় রাখা, এটাকে গ্রাম পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া কঠিন’।

তিনি আরও জানান, ‘কোভ্যাক্সের চিঠি পাওয়ার পর এরইমধ্যে তারা টেলিফোনে কথা বলেছেন। শিগগিরই চিঠি দিয়েও বাংলাদেশের প্রত্যাশার বিষয়গুলো জানিয়ে দেওয়া হবে’।

বাংলাদেশ সরকার করোনাভাইরাস প্রতিরোধে যে পাঁচটি টিকার জরুরি ব্যবহারের অনুমোদন দিয়েছে, তার মধ্যে ফাইজার-বায়োএনটেকের ভ্যাকসিন একটি। অন্যগুলো হল, ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটে তৈরি অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার কোভিশিল্ড, রাশিয়ার তৈরি স্পুৎনিক-ভি, চীনের সিনোফার্মের তৈরি টিকার বিবিআইবিপি-সিওরভি (BBIBP-CorV) এবং চীনের সিনোভ্যাক লাইফ সায়েন্সেস কোম্পানির তৈরি ‘করোনা ভ্যাক’।

এই টিকাগুলোর মধ্যে ফাইজার-বায়োএনটেক ছাড়া বাকি চার কোম্পানির টিকাই সাধারণ রেফ্রিজারেটরের তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করা যায়, যা বাংলাদেশের জন্য সুবিধাজনক।

তাছাড়া, যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানি মডার্নার টিকাও রয়েছে, যা মাইনাস ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করতে হয়। ফলে এই টিকা পরিবহন করাও কঠিন বলে জানান স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর মনে করে, বাংলাদেশের জন্য চীনের সিনোফার্ম, সিনোভ্যাক, রাশিয়ার স্পুৎনিক ভি এবং যুক্তরাষ্ট্রের জনসন অ্যান্ড জনসনের টিকাই উপযোগী।

উল্লেখ্য, অনুন্নত ও স্বল্পোন্নত দেশগুলো যেন করোনাভাইরাসের টিকা ন্যায্য পরিমাণে পায়, তা নিশ্চিত করতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) ও গ্যাভির নেতৃত্বে গঠিত ‘কোভ্যাক্স’ ডব্লিউএইচও’র অনুমোদন পাওয়া টিকাই দিচ্ছে বিভিন্ন দেশকে।

Share.

Leave A Reply