fbpx

নৌপথে ঢাকামুখী মানুষের ঢল, উপেক্ষিত স্বাস্থ্যবিধি

Pinterest LinkedIn Tumblr +

সরকারের কঠোর বিধিনিষেধকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ঈদ উদযাপন করতে ঢাকা ছেড়েছিলেন ৬৫ লাখের বেশি মানুষ। দূরপাল্লার বাস বন্ধ থাকায় শিমুলিয়া-বাংলাবাজার নৌরুটে এখন ঢাকামুখী মানুষের ঢল দেখা যায়।

ঈদ উদযাপন শেষে এবার ঢাকা ফিরতে শুরু করেছেন দক্ষিণাঞ্চলের হাজারো মানুষ। সোমবার সকাল থেকেই শিমুলিয়া থেকে বাংলাবাজার ঘাটে আসা প্রতিটি ফেরিতে ভিড় দেখা গেছে। মাদারীপুরের বাংলাবাজার ফেরিঘাটেও যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় আছে।

যাত্রীদের চাপ থাকায় এ নৌপথে সবকটি ফেরি চলাচল করছে। ফলে যাত্রীদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি দেখা গেছে।

বিআইডব্লিউটিসি বাংলাবাজার ফেরিঘাটের ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) মো. সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘সোমবার সকাল থেকে আমাদের এ নৌপথে চলাচলকারী ১৮টি ফেরির সবকটি যাত্রী ও যানবাহন লোড নিয়ে চলাচল করছে। উভয় ঘাটেই যাত্রীর চাপ আছে। তবে যাত্রী ও যানবাহন কেউ অপেক্ষমাণ নেই। তাঁরা ঘাটে আসা মাত্রই ফেরিতে পারাপার হতে পারছেন।’

বিআইডব্লিউটিসি থেকে জানা গেছে, এ নৌপথে বর্তমানে ১৮টি ফেরি চালু রাখা হয়েছে। সকাল থেকে যাত্রীদের চাপ বাড়তে থাকায় যানবাহনের তুলনায় যাত্রীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পারাপার করা হচ্ছে। ঘাটে পুলিশ, আনসার, ফায়ার সার্ভিসসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন।

অন্যদিকে দূরপাল্লার গণপরিবহন বন্ধ থাকলেও যাত্রীরা যে যেভাবে পারছেন, ফেরি ঘাটে এসে পৌঁছাচ্ছেন। যাত্রীদের নিয়ে ইজিবাইক, মাহিন্দ্র থ্রি–হুইলারসহ নানা যানবাহনে চড়তে দেখা গেছে।

প্রায় সব ফেরিতে যানবাহনের তুলনায় যাত্রীর সংখ্যাই বেশি দেখা গেছে। প্রতিটি ফেরিতে দুই থেকে তিন  হাজার যাত্রী বহন করা হচ্ছে।

তবে যাত্রীদের মাঝে করোনা নিয়ে তেমন কোনো সচেতনতা দেখা যায় নি। বেশিরভাগ যাত্রী স্বাস্থ্যবিধির তোয়াক্কা না করে নির্বিঘ্নে চলাচল করেছেন। মুখে মাস্ক দেখা যায়নি অনেকেরই। আর সামাজিক দূরত্বের বিষয়টি ছিল বরাবরের মতো  উপেক্ষিত।

অন্যদিকে মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া–দৌলদিয়া ফেরিঘাটেও একই চিত্র দেখা গেছে। দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার মানুষ গ্রামের বাড়িতে ঈদ শেষে এই পথে ঢাকা ফিরছেন।

সোমবার সকাল থেকে পাটুরিয়া ফেরিঘাটে যাত্রীদের চাপ বাড়তে থাকে। রাজবাড়ির দৌলতদিয়া ঘাট থেকে ফেরিতে মানুষকে গাদাগাদি করে ফিরতে দেখা যায়।

অনেক যাত্রীকে যানবাহনের জন্য অপেক্ষা করতে দেখা যায়। কেউ কেউ আবার পরিবহন না পেয়ে পায়ে হাঁটা শুরু করেন। তবে বেশিরভাগকেই স্বাস্থ্যবিধি মানতে দেখা যায়নি।

ফেরিঘাটের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যদের তৎপরতা দেখা গেছে।

বিআইডব্লিউটিসি আরিচা সেক্টরের ডিজিএম জিল্লুর রহমান জানান, পারাপারের জন্য যানবাহন খুব একটা নেই। তবে অতিরিক্ত যাত্রী পারাপার করছে। পারের জন্য এই নৌরুটের ১৫টি ফেরি চলাচল করছে। অতিরিক্ত চাপ সামলাতে পাটুরিয়া থেকে দৌলতদিয়া ঘাটের উদ্দেশ্যে খালি ফেরি ছাড়া হচ্ছে।

Share.

Leave A Reply