fbpx

পাবনা গণপূর্তে সরকারদলীয় কর্মীদের অস্ত্র হাতে মহড়া, ক্ষোভ ও উদ্বেগ টিআইবির

Pinterest LinkedIn Tumblr +

পাবনা গণপূর্ত কার্যালয়ে প্রকাশ্যে অস্ত্র হাতে সরকারদলীয় কর্মীদের মহড়া সরকারি ঠিকাদারি ও নির্মাণ কাজে অবৈধ পেশিশক্তি ব্যবহারের নগ্ন প্রকাশ বলে মন্তব্য করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।

রবিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জার্মানভিত্তিক দুর্নীতিবিরোধী সংস্থাটি।

বিজ্ঞপ্তিতে এ ঘটনাকে দেশের সরকারি ক্রয় ও নির্মাণ কাজে বহুদিন ধরে প্রচলিত অবৈধ বলপ্রয়োগ, ভয়-ভীতির মাধ্যমে কাজ বাগিয়ে নেওয়া এবং অস্ত্রের মুখে প্রতিযোগিতামূলক কাজবন্টন প্রভাবিত করার আরেকটি প্রকাশ্য উদাহরণ বলেও মন্তব্য করেছে টিআইবি।

উল্লেখ্য, গত ৬ জুন রবিবার পাবনায় গণপূর্ত বিভাগের দপ্তরে অস্ত্র নিয়ে মহড়া চালায় ঠিকাদারী কাজের সাথে সংশ্লিষ্ট আওয়ামীলীগের স্থানীয় কয়েকজন নেতা। পরে সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ করা ভিডিও গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত হলে দেশজুড়ে আলোচনার আসে ঘটনাটি।

১৩ জুন রবিবার সেই ঘটনার নিন্দা ও ক্ষোভ জানিয়ে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘সরকারি ক্রয়, নির্মাণ কাজ এবং প্রাতিষ্ঠানিক নানা কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতার জন্য প্রতিযোগিতামূলক যেই টেন্ডার ব্যবস্থা চালু করা হয়েছিলো, সরকারদলীয় নেতাকর্মী ও স্বার্থান্বেষী মহলের অবৈধ বলপ্রয়োগ, হুমকি-ধামকি এবং জবরদখলে দীর্ঘদিন ধরেই তা অকার্যকর হয়ে আছে।

‘কিন্তু সংশ্লিষ্ট নানা কর্তৃপক্ষ ছোটখাট কিছু ব্যতিক্রম ব্যতীত বরাবরই তা অস্বীকার, এবং কোন কোন ক্ষেত্রে সুরক্ষা প্রদান করে আসছে। পাবনার ঘটনা সরকারি টেন্ডার প্রক্রিয়ায় পেশিশক্তি ব্যবহারের ভয়াবহ সেই রেওয়াজের আরেকটি দৃশ্যমান নজিরমাত্র। অবিলম্বে এই ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্ট সকলকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান এবং উন্মুক্ত ও প্রতিযোগিতামূলক টেন্ডারব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে,’ দাবি জানায় টিআইবি।

প্রদর্শিত অস্ত্রগুলোকে নিবন্ধিত বৈধ হলেও আচরণ কতটা আইনসিদ্ধ, প্রশ্ন তুলে ড. জামান বলেন, ‘যদি অস্ত্রগুলো বৈধ হয়েও থাকে, তবুও গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দপ্তরে জনসম্মুখে এভাবে অস্ত্র প্রদর্শন করে ভীতি সঞ্চার করা আইনসিদ্ধ হতে পারে না। তাই এঘটনাকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বলাটা অত্যুক্তি হবে না।

তিনি বলেন, ‘অস্ত্র আইনের শর্ত ভঙ্গ হয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হবে’- পুলিশের এমন দায়সারা আশ্বাস আমাদের স্তম্ভিত করেছে। এই আশ্বাসেই পুলিশী ব্যবস্থাগ্রহণ থমকে যাবে কিনা সেটিও আমরা নিশ্চিত নই। অথচ ঘটনার পরপরই পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন বিষয়টি খতিয়ে দেখে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে, স্বাভাবিকভাবে এমনটাই প্রত্যাশিত ছিলো।’

‘তাই আইনি প্রশ্নগুলোর সমাধানের পাশাপাশি এ ধরনের ঘটনা বন্ধে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তড়িৎ ও কার্যকর তৎপরতার দাবি জানাই। সরকারি দলসংশ্লিষ্ট হিসেবে এই অস্ত্র মহড়ার কুশীলবরা ছাড় পেয়ে গেলে এ ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বিষাক্ত সাপের মতো সারাদেশেই ছড়িয়ে পড়বে,’ আশঙ্কা টিআইবির।

Share.

Leave A Reply