fbpx

মাস্টারশেফ অস্ট্রেলিয়ার তৃতীয় হলেন কিশোয়ার

Pinterest LinkedIn Tumblr +

প্রবাদ আছে, ‘পান্তা ভাতের জল, তিন পুরুষের বল’ অথবা ‘নুন আনতে পান্তা ফুরায়’ এই কথাগুলো কিন্তু শুধু শুধু আসেনি। একসময় পান্তা ভাত ছিল গ্রাম বাংলার মানুষের প্রতিদিনের খাবার। পান্তা ভাতে এক ধরনের ব্যাকটেরিয়া থাকে যা শরীরের জন্য উপকারী। কিন্তু সময় বদলেছে। মানুষ নিজস্ব খাবারগুলো বাদ দিয়ে পশ্চিমা খাবারের দিকে ঝুঁকে পড়েছে। এমনকি গ্রামের মানুষও এখন আর আগের মতো পান্তা ভাত খায় না।

আমাদের গ্রাম-বাংলার সেই পান্তা ভাত দিয়ে বাজিমাত করলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভুত কিশোয়ার চৌধুরী। রান্না বিষয়ক একটি জনপ্রিয় রিয়ালিটি শো মাস্টারশেফ অস্ট্রেলিয়ায় তিনি এই খাবারের রেসিপি দিয়েই তৃতীয় স্থান অধিকার করেছেন।

প্রতিযোগীতায় প্রথম হয়েছেন জাস্টিন। জাস্টিন, পিট ও কিশোয়ার এই তিন ফাইনালিস্টকে নিয়ে দুই দিন ধরে চূড়ান্ত পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। কিশোয়ার প্রথমদিন ফাইনাল ডিশে রান্না করেন ‘স্মোকড ওয়াটার রাইস, আলু ভর্তা ও সার্ডিন’। অর্থাৎ বাঙালির চিরচেনা পান্তা ভাত, আলু ভর্তা ও সার্ডিন মাছ ভাজা।

ফাইনাল ডিশ নিয়ে কিশোয়ার বিচারকদের বলেন, ‘প্রতিযোগিতায় এমন রান্না সত্যিই চ্যালেঞ্জের। সাধারণ রেস্টুরেন্টে এমন রান্না হয় না। কিন্তু বাঙালির কাছে এটা পরিচিত রান্না।’

বিচারকেরা এই রান্না খেয়ে রিতিমতো মুগ্ধ। তিন বিচারকই কিশোয়ারকে দশে দশ দেন।

চূড়ান্ত পর্বে তিনি প্রথমে হাঁসের মাংসের একটি পদ দিয়ে শুরু করেছিলেন। কিন্তু পরে তিনি তার মত পাল্টান। ফাইনাল ডিশ হিসেবে বেছে নেন পান্তা ভাত, আলু ভর্তা এবং সার্ডিন মাছ। এই মাছের স্বাদ অনেকটা ইলিশ মাছের কাছাকাছি।

তবে মাস্টারশেফ অস্ট্রেলিয়া’র ফাইনাল রেজাল্টের আগেই লাখ লাখ বাঙালির মন জয় করে নিয়েছেন তিনি।

মাস্টারশেফ অস্ট্রেলিয়ার মতো আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় একের পর এক লাউ চিংড়ি, বেগুন ভর্তা, খিচুড়ি, মাছ ভাজা, আমের টক, খাসির রেজালার মতো এমন মুখরোচক খাবার রান্না করে বিচারকসহ বিভিন্ন ভাষাভাষীর দর্শকের নজর কাড়েন কিশোয়ার।

Share.

Leave A Reply