fbpx

লাশের মিছিল, দায়মুক্তি কবে, কীভাবে?  

Pinterest LinkedIn Tumblr +

করোনার ভয় মধ্যবিত্তের মাঝে জেকে বসার সবচেয়ে বড় কারণ হলো মধ্যবিত্তরা এই প্রথম ম্যাসিভ মৃত্যু দেখেছে।

কিন্তু এই দেশের নিম্নবিত্তরা, এই দেশের শ্রমিকেরা এমন কোনো বছর নাই যে বছর তারা প্লাস্টিকের ব্যাগে ভরে আসা নিহত স্বজনের লাশ দেখেনি। তাই করোনার ভয় তাদের কিছুই করতেও পারেনি। এই দেশের মধ্যবিত্তরা স্বজনদের পাশে দাঁড়ানোর সুযোগ পেলেও এই শ্রমিকেরা একেবারে সুস্থ সবল স্বজনদের মাত্র কয়েক মূহুর্তের ব্যবধানে লাশটাকে সঠিকভাবে দেখার সুযোগ পায়নি। কারণ লাশের সেই অবস্থাও থাকেনা।

মধ্যবিত্তরা এই ‘সদর দরজা বন্ধের ফলে হু হু করে শ্রমিকের মৃত্যু’ দেখেছে কিন্তু কখনো শ্রমিকের পাশে দাঁড়াতে চায়নি, বরং উচ্চবিত্তের কাতারে যেতে ক্রমাগত চাটুকারিতা চালিয়ে গেছে।

এই দেশের মধ্যবিত্তের মতো স্বার্থপর আর কোনো জনগোষ্ঠী নাই। তারা নিজেরাও জানে তারা নিজেরাও শোষিত কিন্তু কেবল দুই ইঞ্চি ভালো থাকার লোভে পুকুরে বিষ দিলে যেমন অনেক মাছ মরে ভেসে থাকে সেভাবে মানুষের লাশ দেখে কখনো নিম্নবিত্তের কাঁধে হাত রাখেনি।

ছবি: সংগৃহীত

‘কমলা রকেট’ সিনেমা খুব ভালো করে এই ক্লাস ডিফারেন্স বুঝিয়েছিলো। কলাপ্সিবল গেট বন্ধ, এমারজেন্সি এক্সিট নাই, আগুন লাগলে শ্রমিকের সিকিউরিটি এনশিওর কীভাবে করা যাবে সেই পলিসি নেয়নি মালিকেরা। শ্রমিকের কণ্ঠ যারা হতে পারতো তারাও কখনো সরকারকে আঙুল তুলে প্রশ্ন করেনি তোমার ব্যবস্থার মালিকদের মানুষ খেকো আচরণের বিরুদ্ধে তোমার অবস্থান কী।

প্রকৃতির কী নির্মম খেলা। যেই সিস্টেম নিয়ে তারা স্বার্থপরের মতো কথা বলেনি, কারণ গরিবের হাসপাতাল হলো সরকারি হাসপাতাল। সেই সিস্টেম বিভাগীয় শহরে, জেলা শহরে, উপজেলায় কোথাও এখন নিম্নবিত্ত – মধ্যবিত্ত কন্সিডার করছে না।

এতো মানুষের লাশ প্রতি বছর নেয়াকে স্বাভাবিক করে ফেলতে পারে কোন জাতি? সামান্য রান্না করতে গিয়ে আগুনের ছ্যাকা লেগে এতো তীব্র কষ্ট পেয়েছি সেখানে প্রতি বছর পুড়ে ছাই হয়ে যায় আমার মতো রক্ত মাংসের মানুষ। পুড়ে ছাই হয়ে যায় কত শত পরিবারের স্বপ্ন।

ছবি: সংগৃহীত

নারায়ণগঞ্জের আগুন লাগা ফুড কারখানার ১২ বছরের মেয়েকে যেই মা খুঁজে বেড়ায়, সাত মাসের শিশু ঘরে রেখে এসে যেই স্বামী স্ত্রীর জন্য সারারাত ধরে আগুনে ধ্বসে যাওয়া বিল্ডিংয়ের সামনে স্ত্রী কন্যার কাছে ফেরত যাবার জন্য অপেক্ষা করে অথবা সেই ভাই যে তার ছোট ভাইয়ের শেষ ফোনকলে তাকে ক্ষমা করে দেবার করুণ আকুতি শুনেছে তাদের কারোর কষ্টই আমি চাইলে অনুধাবন করতে পারবো না।

হা হুতাশ করতে পারি কিন্তু ১২-১৮,১৯,২০ বছরের যেই শিশুরা কারখানায় কাজ করতে গিয়ে এখনো নিখোঁজ তাদের কারোর যন্ত্রণা আমি চাইলেই অনুধাবন করতে পারিনা। আমি চাইলেই প্রত্যেক স্বজন হারানো পরিবারের কষ্টের ভাগিদার হতে পারিনা। যেমন আমি চাইলেই এতো শিশু শ্রমিককে দরজায় তালা ঝুলিয়ে গণহত্যার দিকে ঠেলে দেয়া মালিকের কিছুই করতে পারিনা।

এই প্রতিবছরের লাশের মিছিলে আমার থাকা কত শত দায়ের মুক্তি আমি পাবো কিভাবে?

লেখক
অন্তরা শারমিন, শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

Share.

Leave A Reply