fbpx

সাফ থেকে বাংলাদেশের বিদায়

Pinterest LinkedIn Tumblr +

ম্যাচের তখন আট মিনিট; দুর্দান্ত গতিতে বল নিয়ে বক্সের বাম প্রান্ত থেকে নেপাল অর্ধে ঢোকার চেষ্টা রাকিব হোসেনের। রাকিবকে থামাতে গিয়ে স্লাইড দিলেন নেপাল ডিফেন্ডার গৌতম শ্রেষ্ঠা; ছিটকে গেলেন রাকিব। রেফারির বাঁশি এবং ফাউল।

১৬ বছর পর সাফের ফাইনালে খেলার হাতছানি বাংলাদেশের সামনে। ফ্রি-কিক নিতে এগিয়ে এলেন অধিনায়ক জামাল ভুঁইয়া। তার শটটাকে রুখতে সামনে দাঁড়িয়ে দুই নেপাল খেলোয়াড়। ডান পায়ে জামালের শট; সামনে দাঁড়ানো খেলোয়াড়দের একজনের পিঠে লেগে বলটার দিকটাই গেল বদলে। গোলকিপারের ঠিক সামনে দাঁড়ানো সুমন রেজার হেড এবং গোল।

ফাইনাল খেলতে হলে জয়ের বিকল্প কিছু ছিল না বাংলাদেশের সামনে; নেপালকে করতে হতো ড্র। তাই এক গোল হজমের পরেও নেপালের জন্য পথটা তখনও সহজই ছিল্। সমতা নিয়ে মাঠ ছাড়তে পারলেও যে প্রথমবারের মতো সাফের ফাইনালে পৌঁছে যাবে নেপাল! পুরো ম্যাচ জুড়েই আক্রমণাত্মক খেলা নেপাল ৬৪ মিনিটে গোলের দেখাও পেয়ে যেতে পারতো। কিন্তু, নেপালের এক ফরোয়ার্ডের হেড থেকে হতে চলা নিশ্চিত গোলটাকে আনিসুর রহমান জিকো যেভাবে ঝাপিয়ে রুখলেন, তা অবিশ্বাস্যকর। পুরো ম্যাচেই বাংলাদেশ গোলকিপার ছিলেন অপ্রতিরোধ্য, ধারাভাষ্যে থাকা একজন তো বলেই দিলেন, ‘জিকো যেন বাংলাদেশের দ্য ওয়াল’

নেপাল কোচ আল মুতাইরি ম্যাচের শুরুটাই করেছিলেন তিনজন ফরোয়ার্ড নিয়ে; দ্বিতীয়ার্ধে নামালেন আরো একজনকে। লক্ষ্য একটাই, ‘যে কোনো মূল্যে একটা গোল।‘ বাংলাদেশ দলেও এসেছে পরিবর্তন। মাঠ থেকে উঠিয়ে নেয়া হয়েছে অধিনায়ককেও; অস্কার ব্রুজোন কতটা মরিয়া এই ম্যাচ জয়ে তা বোধহয় জামালকে উঠিয়ে নেয়ার কথাতেই অনুমান করা যায়। কয়েক মিনিট পরেই মাঠে মতিন মিয়া; তর্ক সাপেক্ষে বাংলাদেশ দলের সবচেয়ে দ্রুততম খেলোয়াড়। একপ্রান্তে মতিন, অপর প্রান্তে সুমন! দুই দলের লক্ষ্যই যে আরেকটা গোল করে সুবিধাজনক অবস্থানে নিজেদের নিয়ে যাওয়া, তা অনুমান করাই যায়।

বাংলাদেশের দর্শকদের এই হাসিটা শেষ অব্দি টিকেনি মুখে ৮০ মিনিটে মাঝমাঠ থেকে গোলকিপারকে রাকিবের ব্যাকপাশ; বিপরীত দলের দুই স্ট্রাইকারের বিপরীতে নেই কোনো ডিফেন্ডার। গোলপোস্টের নীচ থেকে দৌড়ে এলেন জিকো; বলটাকে সেইভ করতে গিয়ে ফাউল করে বসলেন। রেফারির লালকার্ড; এবং ১০ জনের বাংলাদেশ। জিকোর জায়গায় গোলপোস্টের নীচে আশরাফুল রানা।

হঠাৎ করেই খেলায় ছন্দটা হারিয়ে ফেলতে শুরু করে বাংলাদেশ; ৮৮ মিনিটে সাদ উদ্দিন এবং বিশ্বনাথের ধাক্কায় মাটিতে লুটিয়ে নেপালের খেলোয়াড়। ফলাফলস্বরুপ পেনাল্টির বাঁশি রেফারির; এবং অঞ্জন বৃষ্টার গোল। একটা লাল কার্ড কিভাবেই না বদলে দিলো খেলাটাই! এরপর অনেক চেষ্টা করলেও গোলের দেখা পায়নি বাংলাদেশ। ড্র করেও তাই বিদায় মেনে নিতে হলো অস্কার ব্রুজনের দলকে। প্রথমবারের মতো সাফের ফাইনালে নেপাল।

Share.

Leave A Reply